আইবিএ : এমবিএ প্রোগ্রামে ভর্তিচ্ছুদের জন্য পরামর্শ

১৫ জুলাই ২০১২, রবিবার, ৯:৫৬ অপরাহ্ন / / পরামর্শ, ফিচার

যারা দেশেই এমবিএ করতে চান, তাদের অনেকেরই লক্ষ্য থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-তে ভর্তি হওয়া। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, চাইলেই তো আর ভর্তি হওয়া যাচ্ছে না, সেরা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে সেরা পারফরমেন্সটাই দেখাতে হয়। তাই আগে জেনে-বুঝে এবং নিজেকে প্রস্তুত করেই চোখ দিন আইবিএ’র দিকে!

কাদের জন্য: আসলে হওয়া উচিৎ কাদের জন্য নয়?? আপনি যেকোন ব্যাকগ্রাউন্ডেরও হোন কোন সমস্যা নেই। বাংলা পড়ুন বা ইতিহাস পড়ুন, বিজনেস পড়ুন বা ইন্জিনিয়ারিং পড়ুন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুন বা বুয়েটে পড়ুন আপনার ব্যাচেলর ডিগ্রী থাকলেই পরীক্ষা দিতে পারবেন। একটা মিনিমাম রিকোয়ারমেন্ট আছে যেটা সবাই মিট করে।

কেন আইবিএ-র এমবিএ: আপনি যদি দেশে সরকারী চাকরিতে গিয়ে ঘুষ খাইতে না চান বা আপনার কোন মামা-চাচা আপনাকে চাকরি দেওয়ার মত এরকম কেউ নাই আর বিজনেস করারও ইচ্ছে বা ক্যাপিট্যাল না থাকে, তাহলে দেশে থেকেই ভাল চাকরি করে মিডলক্লাস বা আপার-মিডলক্লাস লাইফ লিড করার জন্য আইবিএ-র এমবিএ-র কোন বিকল্প নেই। আইবিএ-র এমবিএ করে আপনি মোটামোটি ভাল প্লেসমেন্টের নিশ্চয়তা পাবেন। এখানে দুধরণের এমবিএ আছে। রেগুলার আর এক্সিকিউটিভ। এক্সিকিউটিভ এমবিএ-তে তিনবছরের চাকরির অভিজ্ঞতা লাগে। তবে এক্সিকিউটিভের এডমিশান টেস্ট একটু ইজি হয়। কোন ম্যাথ পার্ট থাকেনা। চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে এক্সিকিউটিভে যাওয়াই ভাল। নাহয় রেগুলারটাতে যাবেন। এক্সিকিউটিভে অবশ্য (মনে হয়) টাকাও অনেক বেশি লাগে। রেগুলারে টাকা তেমন খরচ হয়না।

এডমিশান টেস্ট: যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএ-তে ভর্তি হতে গেলে অনেক ঝামেলা। জিম্যাট দাও, টোফেল দাও, স্কোর পাঠাও, এডমিশান রচনা লিখ, ইন্টারভিউ দাও। কত যে ঝামেলা, যারা এটার ভিতর দিয়ে গিয়েছেন তারা জানবেন। আইবিএ-তে একটা ভর্তি পরীক্ষা আর একটা ইন্টারভিউ, এ দুটাই যথেষ্ঠ। ঝামেলাবিহীন বলা যায়। ইন্টারভিউটাও একদম ইজি। তাই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে এডমিশান টেস্টের দিকে। আপনি এডমিশান টেস্টে ভাল করলেই মোটামোটি নিশ্চিত চান্স পাওয়া। তবে মনে রাখা দরকার দেশের একমাত্র মানসম্মত এমবিএ হওয়ার জন্য এখানে প্রচুর কম্পিটিশান। যদিও এই “মানসম্মত” বলতে আমি বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ডে মানসম্মতকেই বুঝাচ্ছি। অবশ্য আইবিএ-তে প্রচুর আউল-ফাউল শিক্ষক আছেন। সেটা না ধরাই বেটার। এডমিশান টেস্টে কি কি থাকে সেটা নিয়ে কথা বলছি প্রথমে।

ল্যাংগুয়েজ এন্ড কমিউনিকেশান: এরকম ফ্যান্সি নাম থাকলেও আসলে এটা হচ্ছে ভারবাল/ইংলিশ সেকশান। এখানে কয়েকধরনের প্রশ্ন থাকে:
১। ভোকাবুলারি-বেসড প্রশ্ন: এখানে সিননিমস(সমার্থক শব্দ), এন্টনিমস(বিপরীত শব্দ) আর এনালজি এই তিনটা ক্যাটাগরির প্রশ্ন থাকতে পারে। কোন কোন বছর এই ক্যাটাগরি থেকে কোন প্রশ্নই আসেনা। তবে এখানে ভাল দখল থাকলে সেটা ইংলিশ সেকশানের অন্যসব প্রশ্নের জন্যও ভাল উপকারে আসে। প্রত্যেকটা প্রশ্নের জন্য পাঁচটা চয়েস থাকে। এনালজি প্রশ্নগুলো একটু ভিন্ন। এখানে এক জোড়া শব্দ থাকে প্রশ্ন হিসেবে আর এ দুটা শব্দের মধ্যকার সম্পর্ক যেরকম একই সম্পর্কের আরেক জোড়া শব্দ আনসার চয়েস থেকে বেছে নিতে হয়।
২। রিডিং কম্প্রিহেনশান: রিডিং কম্প্রিহেনশানে সাধারণত একটা পেসেজ থাকে যেখান থেকে ৪/৫টা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। অনেক সময় ছোট ছোট দুটা পেসেজ থাকে, প্রত্যেকটা পেসেজের জন্য ২/৩টা প্রশ্ন থাকে। এই রিডিং কম্প্রিহেনশানগুলো সারাজীবন যে ধরণের রিডিং কম্প্রিহেনশান পন্ঞম শ্রেনী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত করেছেন সেগুলার মতই। তবে সময় কম থাকে বলে এটার জন্য ট্যাকটিকস একটু ভিন্ন। আপনার যদি ভাল রিডিং হ্যাবিট থাকে তাহলে এটা ইজি হয়ে যাবে।
৩। সেন্টেন্স কমপ্লেশান: এটা সবসময় থাকেনা। কোন কোন বছর থাকে। এখানে একটা লম্বা সেন্টেন্স থাকে যার একটা বা দুটা শুন্যস্থান থাকে। শুন্যস্থান পূরণই বলা যায়। সেন্টেন্সটার মিনিং বুঝা জরূরী আর ভাল ভোকাবুলারী থাকা দরকার এখানে ভাল করার জন্য।
৪। গ্রামার: গ্রামার শব্দটা দেখে ভয় পাওয়ার কারন নেই। এখানে আপনাকে টেন্স, ভয়েস, নেরেশান এসব করতে হবেনা। এখানে সাধারণত সেন্টেন্স কারেকশান, পিনপয়েন্টিং এররস এই দুইটা আইটেমের প্রশ্ন থাকতে পারে। পিনপয়েন্টিং এররসে একটা লম্বা সেন্টেন্স থাকে যার পাঁচটা/চারটা পার্ট আন্ডারলাইনড থাকে। এখানে একটা ভুল থাকে যেটা খুঁজে বের করতে হয়। এটা সবচেয়ে সহজ সেকশান। টোফেল সিবিট-র বইয়ে এধরনের প্রচুর এক্সারসাইজ থাকে। সেন্টেন্স কারেকশানে একটা সেন্টেন্স থাকে যার কিছু অংশ বা পুরোটাই আন্ডারলাইন থাকে। আন্ডারলাইনকৃত অংশে কোন একটা ভুল থাকে, সেটা আনসার চয়েস দেখে ঠিক করতে হয়।এটা জিম্যাট থেকে আসে।

কোয়ান্টিটেটিভ: এডমিশান টেস্টের ২য় অংশটা হল ম্যাথ বা কোয়ান্টিটেটিভ। এখানে হাইস্কুল লেভেলের এরিথমেটিক, জিয়মেট্রি, এলজেব্রা আর ওয়ার্ড প্রবলেম আসে। এটা মোটামোটি স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড, তাই তেমন আলোচনায় যাচ্ছিনা। এক্সিকিউটিভে এটা থাকেনা।

এনালিটিকাল এবিলিটি:
এনালিটিকাল এবিলিটিতে দুধরণের প্রশ্ন থাকতে পারে। পাজল আর ক্রিটিকাল রিজনিং। পাজলে একটা লম্বা পেসেজের মত থাকে যেখানে বিভিন্ন তথ্য দেওয়া থাকবে। যেমন ক খ গ ঘ চারজন একটা গোলটেবিলে বসবে। ক, খ-র পাশে বসতে চাই, খ আবার গ-য়ের পাশে বসবেনা। ক ঘ-য়ের পাশ বসলে গ ক-য়ের পাশে বসবেনা। এ রকমই হয়। ক্রিটিকাল রিজনিং-এ একটা ৪/৫ লাইনের প্যসেজ থাকে, সেটার উপর বেইস করে আনসার চয়েজ থেকে কনক্লুশানকে উইকেন/স্ট্রেংথেন বা কনক্লুশান ড্র করা, সিমিলার এক্সাম্পল দেয়া এসব করতে হয়। এ দুটা ছাড়াও আরো দুটা সেকশান থাকতে পারে। ডাটা সাফিসিয়েন্সি আর ডাটা ইন্টারপ্রেটেশান। এ দুটা আসলে ম্যাথের পার্ট হওয়া উচিৎ কিন্তু আইবিএ-তে বেশিরভাগই এগুলা এনালিটিকালের পার্ট হিসেবে আসে। কয়েকবার অবশ্য ম্যাথের পার্ট হিসেবেও এসেছে। ডাটা সাফিসিয়েন্সি একটু কঠিন যা জিম্যাট থেকে আসে আর ডাটা ইন্টারপ্রেটেশান আসে জিআরই থেকে। ইন্টারপ্রেটেশানে পাইচার্ট, বারডায়াগ্রাম এসব থেকে উত্তর দিতে হয় এবং এটা সবার জন্যই সহজ। সাফিসিয়েন্সিতে দুটা স্টেইটমেন্ট থেকে প্রশ্নটা উত্তর করা যাবে কিনা এটাই ডিসাইড করতে হয়।

রাইটিং পার্ট:
রাইটিং পার্টে দু ধরণের প্রশ্ন থাকে সাধারণত। একটাতে ফ্রি-রেসপন্স প্রশ্ন অন্যটাতে থিমেটিক রাইটিং বা এধরণের কিছু থাকে। এখানে ১৫% থেকে ২০% গ্রেড থাকে। কম সময়ের মধ্যে গ্রামাটিকেল ভুল ছাড়া মিনিংফুল লিখার প্র‌্যাকটিস করতে হবে।

এখন আসা যাক কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন সে প্রশ্নে: আইবিএ-র এমবিএ-র প্রিপারেশান নিতে গেলে সুবিধা হচ্ছে আপনি একই প্রিপারেশানে ঢাবি-র ইভনিং এমবিএ, বিআইবিএম-র এমবিএম, এমআইএসটি-র এমবিএ, প্রাইভেটের এমবিএ এমনকি বিসিএসের অনেকাংশেই প্রিপারেশান হয়ে যাবে। প্রিপারেশানের জন্য দুই ধরণের পরীক্ষার্থীর জন্য দুধরণের টাইমস্কেল। যদি আপনার ইংরেজী ভাল/মোটামোটি ভাল জানা থাকে তাহলে ২/৩ মাস যথেষ্ঠ। যদি তা না থাকে তাহলে আগে আপনাকে ৫/৬ মাস সময় ইংরেজী ভাল জানার জন্য ব্যয় করতে হবে। তারপর এমবিএ ভর্তির জন্য প্রিপারেশান নিতে হবে। আর যারা জিআরই/জিম্যাট দিয়েছেন বা প্রিপারেশান নিয়েছেন এবং জিম্যাটে ৬০০ আর জিআরই-তে ম্যাথে ৭৭০+ এবং ভারবালে ৫০০+ পেয়েছেন বা পাওয়ার মত যোগ্যতা আছে তাদের জন্য ১সপ্তাহের প্রিপারেশান যথেষ্ঠ।

ইংলিশ ভাল না থাকলে ভাল করার জন্য কুম্ভকর্ণ নিকের জিম্যাট পোস্ট থেকে কপি করছি।ইংলিশে ইমপ্রোভ করার এটা সাধারণ গাইডলাইন। কারো যদি ডিটেলস দরকার হয় তাহলে কমেন্টে জবাব দেওয়া যাবে।

“আপনাকে আগে জানতে হবে আপনার ইংলিশ স্কিলস কেমন। যদি ভাল না হয় তাহলে জিমেটে ভাল করা সম্ভব না। যদি ইংলিশ স্কিলস ভাল না হয় তাহলে ৬ মাস প্রথমে ইংলিশ স্কিলস ভাল করতে হবে। এজন্য আপনি ওয়ার্ড পাওয়ার মেইড ইজি বা ওয়ার্ড স্মার্ট বইগুলো পড়ে ভাল ভোকাবুলারি আয়ত্বে আনতে হবে। সাথে সাথে ইংলিশ ফিকশান, নিউজপেপার, ম্যাগাজিন, জার্নাল এসব পড়তে হবে। যেকেউ যদি ৪-৬ মাস এভাবে সিস্টেমেটিক্যালি চেষ্টা করে তাহলে খুব ভাল ইংলিশ স্কিলস আয়ত্বে আনতে পারবে। ইংলিশ তো আরবীর মতই একটা ভাষা। বাংলাদেশের অশিক্ষিত লোকজন কোনদিন আরবী না জেনে মিডল ইস্টে গিয়েছয় মাসেই আরবী শিখে ফেলতেছে! তাহলে ইংলিশ না পারার কোন কারন নেই।”

“ইংলিশ ভাল না খারাপ সেটা বুঝার জন্য যেকোন ইংলিশ ডেইলির এডিটরিয়াল পেজে কলামগুলো পড়ে দেখুন। যদি আপনি ভাল বুঝতে পারেন আর খুব কম সংখ্যাক শব্দই আপনার অজানা থাকে তাহলে এমবিএ-র জন্য আপনাকে মাথা ঘামাতে হবেনা। এটুকু ইংলিশ দিয়েই আপনি ভাল করবেন।”

প্রিপারেশান প্ল্যান:
আপনার ইংলিশ উপরের লেভেলে আছে এটা ধরে নিয়ে এগুচ্ছি। প্রস্তুতির জন্য আপনার ২/৩ মাস সময় লাগবে। প্রথমেই ভোকাবুলারির কথাই আসি। সাইফুর’স এমবিএ বইয়ে ভোকাবুলারি যেগুলো দেওয়া আছে সেগুলোই যথেষ্ঠ। অথবা ওয়ার্ডস্মার্ট ১ আর ২ পড়তে পারেন। ভোকাবুলারির জন্য ফ্ল্যাশকার্ড বানাতে পারেন। আপনার যদি অলরেডী মোটামোটি লেভেলের ইংলিশ জানা থাকে তাহলে সাইফুর’সের ৮০% শব্দই আপনার জানা থাকবে। বইটার এন্টনিমস পড়ার দরকার নেই, সিননিমস পড়লেই এন্টনিমস জানবেন। তবে ওয়ার্ড শিখার সাথে সাথে আপনাকেকোন ইংলিশ ম্যাগাজিন, ডেইলী, উইকলি এরকম কিছু নিয়মিত পড়তে হবে। নাহয় শিখা ওয়ার্ডগুলো কোনদিন মনে থাকবেনা। তাছাড়া এটা আপনাকে রিডিং কম্প্রিহেনশান, সেন্টেন্স কম্প্লেশান বা অন্যান্য অংশেও ব্যাপক সাহায্য করবে। সাইফুর’সের গ্রামার পরশনে যা আছে তাও নিয়মিত পড়ুন এবং বুঝুন। সাথে সাথে রাইটিং প্র‌্যাকটিস করুন। ফ্রি-হ্যান্ড লিখে ইংরেজী জানা কাউকে আপনার লেখা দেখান, তিনি যাতে ভুলগুলো বের করে দিতে পারেন। ম্যাথের জন্য সাইফুর’সেরই বইয়ের ম্যাথ পার্টটা ভালমতে প্র্যাকটিস করুন। ম্যাথে যদি সমস্যা হয় তাহলে কাপলান জিআরই/জিম্যাট ম্যাথ ওয়ার্কবুকটা ইন-ডেপথ প্র্যাকটিস করতে পারেন। ওখানে কিছু শর্টকাট দেওয়া আছে সেগুলো দেখুন। এনালিটিকাল এবিলিটি-র জন্য প্রিন্সটন রিভিউ ক্র্যাকিং দ্যা জিআরই থেকে পাজলের ট্যাকটিকসগুলো শিখে নিন। ওখানে ভালভাবে এক্সপ্লেইন করা আছে। ক্রিটিকাল রিজনিং-এর জন্য প্রিন্সটন রিভিউ ক্র্যাকিং দ্যা জিম্যাট দেখতে পারেন। ডাটা ইন্টারপ্রেটেশানের জন্যও প্রিন্সটন রিভিউ জিআরই আর সাফিসিয়েন্সির জন্য সেইম প্রিন্সটন রিভিউ ক্র্যাকিং দ্যা জিম্যাট থেকে পড়ুন। সেখানে শর্টকাটগুলো ভালমতে প্র্যাকটিস করুন।

প্র্যাকটিস করুন প্রচুর:
আইবিএ-র ভর্তি পরীক্ষায় সময় খুব কম, তাই পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে প্রচুর প্র্যাকটিস করুন। নাহয় সেখানে গিয়ে জানা প্রশ্নও ভুল করবেন। প্র্যাকটিসের জন্য সবচেয়ে ভাল হচ্ছে আইবিএ-র এমবিএ-র আগের বছরের প্রশ্নপত্র। সেগুলো সময় ধরে ম্যাথের জন্য ৩০/৩৫ মিনিট, ভারবালের জন্য ৩০/৩৫ মিনিট, এনালিটিকালের জন্য ১৫/২০ মিনিট, রাইটিংয়ের জন্য ২৫/৩০ মিনিট এভাবে সময় দিয়ে ঘড়ি হাতে অনুশীলন করুন। এটা যাস্ট একটা সাধারণ গাইডলাইন। আপনি সময়টাকে একটু এদিক ওদিক করে দেখতে পারেন। প্রথম প্রথম অনেক বেশি সময় লাগবে, তবে আস্তে আস্তে প্র্যাকটিস করতে থাকলে সময় কমে আসবে অনেক। যারা এগুলো প্র্যাকটিস করে ফেলেছেন অথচ হাতে এখনও প্রচুর সময় আছে তারা অফিসিয়াল জিম্যাট, অফিসিয়াল জিআরই, ব্যারন্‌স জিম্যাট/জিআরই থেকে প্র্যাকটিস করতে পারেন। তবে সাইফুর’সের এমবিএ বইয়ের অনুশীলনীগুলো করতে ভুলবেননা যেন।

পরীক্ষা:
এমবিএ পরীক্ষা সাধারণত ডিসেম্বরে হয়। এক্সিকিউটিভটা বোধ হয় মার্চের দিকে হয়। পরীক্ষা ২ ঘন্টার হয়। বেশিরভাগ সময়ই ১০০ মার্কের হলেও আগে অনেক সময় ৯০, ৯৫ বা ১০৫/১১০ এরকমও হয়েছে। ম্যাথে থাকে ৩০%, ভারবালে ৩০% এনালিটিকালে ১৫/২০% আর রাইটিং-এ ২০/২৫%। এখন মনে হয় রাইটিং-কে আলাদাভাবে পরীক্ষার শুরুতে ৩০ মিনিট সময়ে শেষ করতে হয়, তারপর অন্যপার্টগুলোর জন্য ১.৫ ঘন্টা সময় থাকে। (কেউ জানলে একটু আওয়াজ দিয়েন।) পরীক্ষায় গিয়ে সময় যাতে ভালভাবে ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য বাসায় পরিক্ষার কন্ডিশানকে সিমুলেট করে প্রচুর প্র্যাকটিস করেন, সময় কিরকম লাগতেছে, ভুল কিরকম হচ্ছে সেগুলো খেয়াল করে উন্নতি করার চেষ্টা করনে। পরীক্ষার যথেষ্ঠ আগেই সেন্টারে যাবেন কারন সিটিং এরেন্জমেন্টে মাঝে মাঝে ঝামেলা হয়, যদিও খুব কম। পরীক্ষা সাধারণত শুক্রবারে হয়, তাই ট্রাফিক জ্যাম থাকেনা। ফরম যেকোন সময় নিলেও জমা দিবেন ডেডলাইনের ২/৩ দিন আগে। তাহলে আপনার সিট বিজনেস ফ্যাকাল্টি বা আইবিএ-তেই পড়বে যেখানে সিটিং এরেন্জমেন্ট আর পরীক্ষার পরিবেশ ভাল। পরীক্ষায় কিছুতেই নার্ভাস হবেননা, কারন কঠিন প্রশ্ন হলে সবার জন্যই কঠিন। আপনি এভাবে প্রস্তুতি নিলে ভাল না করার কোন উপায় নেই। তাছাড়া ভাল না করলেও আপনি যতবার ইচ্ছে ততবার পরীক্ষা দিতে পারবেন। এটা মনে রাখলে আর নার্ভাসনেস ফিল করবেননা। আরেকটা যেটা করতে পারেন সেটা হচ্ছে আইবিএ-র এমবিএ আর বিবিএ ভর্তি পরিক্ষা মোটামোটি একই। যদিও এমবিএ-র প্রশ্নপত্র একটু কঠিন হয় বিবিএ থেকে, তবে প্যাটার্ণ একই থাকে। বিবিএ-র পরীক্ষাটা হয় এমবিএ-র এক-দেড়মাস আগে। যেকেউ, যেকোন বয়সে সেখানে পরীক্ষা দিতে পারে। আপনি একটা ফরম নিয়ে বিবিএ পরীক্ষাটা দিয়ে ফেলেন। আপনার এমবিএ ভর্তি পরীক্ষার জন্য একদম আসল পরিক্ষা হলে পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তু্তি হয়ে যাবে! পরে এমবিএ পরীক্ষার সময় ফ্যামিলিয়ারিটির জন্য ভাল করবেন।

ইন্টারভিউ:
রিটেনে সাধারণত ২৫০-৩০০ জনকে সিলেক্ট করে। এদএর মধ্য থেকে ইন্টারভিউর মাধ্যমে ১৩০-১৫০ জনকে ফাইনালি এডমিশান অফার দেয়। ইন্টারভিউতে আইবিএ-র ৫/৬ জন শিক্ষক থাকেন। তবে প্রশ্ন করে ২/৩ জন। ইন্টারভিউর জন্য এক্সিকিউটিভ ড্রেস পড়ে যাবেন। প্রশ্নগুলো স্ট্রেইটফরোয়ার্ড। আপনি কেন এমবিএ করছেন, আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড এসব জিজ্ঞেস করবে। আর আপনার গ্র্যাড/আন্ডারগ্র্যাডের একই ডিসিপ্লিনের কোন শিক্ষক থাকলে তিনি সে বিষয়ে ব্যাসিক প্রশ্ন করবেন। সমসাময়িক পত্রপত্রিকায় হট কোন ইস্যু নিয়ে (রাজনৈতিক না, বিজনেস রিলেটেড) প্রশ্ন করতে পারেন। না জানলে, দুঃখিত আমি জানিনা বলবেন, ভরং করবেন না অথবা কথা ঘুরাবেন না। ইন্টারভিউর ম্যাক্সিমাম টাইম সাধারণত ১৫ মিনিট। আপনার লিখিত ভাল হলে ইন্টারভিউতে কম পেলেও আপনি চান্স পেয়ে যাবেন। যাবার আগে বাসায় কিছুটা প্র্যাকটিস করতে পারেন।

শর্টকাট:
যারা এত সিরিয়াসলি প্রস্তুতি নিতে চাননা বা নিজের কনফিডেন্স নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্য বলছি। আইবিএ-র প্রশ্নগুলো আসে অফিসিয়াল জিম্যাট গাইড, জিআরই বিগবুক, ব্যারন্‌স জিআরই আর জিম্যাট থেকে। মুখস্তবিদ্যা ভাল থাকলে এখানকার সবপ্রশ্ন মুখস্থ করে ফেলেন। একদম উত্তরসহ মুখস্থ। সাথে আগের বছরের প্রশ্নগুলো ভালমতে প্র্যাকটিস করেন। ৮০% প্রশ্ন কমন পড়ার ৯৫% গ্যারান্টি!! তবে কমন না পাইলে আমাকে মারতে আইসেননা। আমি এই পদ্ধতি সাপোর্ট করিনা। উপরের ডিটেলস পদ্ধতিটাই কাজে লাগান, ভবিষ্যতে অনেক কাজে দিবে।

ডিসক্লেইমার:
আমি কোনদিন আইবিএ-তে পড়িনি। ঢাবি’তে আন্ডারগ্র্যাড পড়ার সময় সাইফুরসে জিম্যাট পড়াতাম। আর মাঝে মাঝে শখে দুয়েকটা এমবিএ প্রস্তুতির ক্লাশ নিতাম। তাছাড়া সেটাও ২ বছর হয়ে যাচ্ছে। এর ভিতর কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা জানিনা। তাই আমার পোস্ট পড়ে কোন সমস্যা হলে আমি দায়ী না!!

কারো কোন ইনফরমেশান থাকলে আপডেট করা হবে। তো শুরু হয়ে যাক এমবিএ মিশন। শুভ কামনা। ইনশাআল্লাহ ভাল করবেন। ভাল না করলেও ক্ষতি নেই, আরো ভাল অপশন আপনার জন্য অপেক্ষা করতেছে।

[সংগৃহীত]

৪ Comments

  1. M. Saifur Rahman

    ১৬ জুলাই, ২০১২ at ১০:১০ পূর্বাহ্ন

    without any coaching can i’ll fully prepared for IBA,MBA admission test? which coaching is the best for IBA(MBA) admission test? please suggest me.

  2. Toufiq

    ১৬ জুলাই, ২০১২ at ১:৪১ অপরাহ্ন

    Dhonnobad! kaje lagbe post ta!

  3. Md. Hafizur Rahman

    ২১ জুলাই, ২০১২ at ১০:০১ পূর্বাহ্ন

    very ………………………………………………………………………………………good vai

  4. Md. Hafizur Rahman

    ২১ জুলাই, ২০১২ at ১০:০২ পূর্বাহ্ন

    bes valo hoaise

মন্তব্য

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>